5.5 C
New York
Saturday, March 2, 2024

বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে যে মাছ

- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -

জীবজগৎ বড়ই বিচিত্র। এখানে নানা ধরনের বৈচিত্র্যময় উদ্ভিদ ও প্রাণী রয়েছে। অসংখ্য প্রাণীর মধ্যে এমনই একটি বিচিত্র প্রাণী হচ্ছে বৈদ্যুতিক ঈল। এটি একধরনের বৈদ্যুতিক মাছ,বৈদ্যুতিক ঈল গুলি দৈর্ঘ্যে ৮ ফুট এবং ওজনে ৪৪ পাউন্ডের বেশি পরিমাণে পৌঁছতে পারে। এদের দীর্ঘ, নলাকার দেহ এবং চ্যাপ্টা মাথা রয়েছে এবং নীচে হলুদ বর্ণের সাথে সাধারণত গা সবুজ বা ধূসর হয় , মাছটিকে দক্ষিণ আমেরিকার অ্যামাজন নদী ও অরিনোকো নদীর অববাহিকায় পাওয়া যায়। এর বৈজ্ঞানিক নাম Electrophorus electricus। মাছটি শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করতে পারে বলেই এমন নামকরণ করা হয়েছে।

- Advertisement -

ইংরেজিতে ঈল বা বানমাছের সাথে মেলানো হলেও প্রকৃতপক্ষে মাছটি ছুরি মাছের প্রজাতির অন্তর্ভূক্ত এবং দেখতে অনেকটা মাগুর জাতীয় মাছের ন্যায়।

এই বিখ্যাত মিঠা পানির শিকারীরা তাদের নামটি প্রচুর বৈদ্যুতিক চার্জ থেকে পেয়ে যায় যা তারা শিকারকে হতবাক করতে এবং শিকারীদের বিরত রাখতে পারে। তাদের দেহে প্রায় ৬০০০ বৈদ্যুতিক কোষগুলি সমন্বিত বৈদ্যুতিক অঙ্গ রয়েছে যা ক্ষুদ্র ব্যাটারির মতো শক্তি সঞ্চয় করে।

বৈদ্যুতিক ঈল নিশাচর প্রাণী। এটি নদী, জলস্রোত, জলাশয় এবং নিমজ্জ্বিত জলজ এলাকার তলদেশে কর্দমাক্ত স্থানে থাকতে পছন্দ করে। যদিও মাছটির অর্থনৈতিক গুরুত্ব তেমন নেই, তথাপি বহু বছর ধরে এটিকে নিয়ে ব্যাপক গবেষণা চলছে। বাচ্চা ঈলের বৈদ্যুতিক ক্ষমতা কম থাকায়, অ্যামাজন এলাকার স্থানীয় লোকেরা ছোট ঈল মাছকে খাবার হিসেবে গ্রহণ করে। তবে পূর্ণাঙ্গ ঈলের মৃত্যুর প্রায় ৮ ঘন্টা পর পর্যন্ত শরীর থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় খাবার হিসেবে ঈল মাছকে নিরুৎসাহিত করা হয়। এরা জলজ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে।

কর্দমাক্ত পানিতে বাস করলেও বৈদ্যুতিক ইলের দৃষ্টিশক্তি প্রখর নয়। তবে এরা তৈরিকৃত বৈদ্যুতিক ক্ষেত্রটিকে রাডারের মতো ব্যবহার করতে পারে। এজন্য প্রথমে শিকার করার জন্য প্রাণীকে বৈদ্যুতিক শক দেয়। পরে বৈদ্যুতিক শকের স্থান সনাক্ত করে ও শিকার খুঁজে নেয়। কর্দমাক্ত পানিতে তারা ক্রমাগত ১০ ভোল্ট পরিমাণ চার্জ প্রদান করে উভচর প্রাণী, মাছ এবং পাখিকে শনাক্ত করে।

শিকারের আকার-আকৃতি ও শক্তি বিবেচনায় ঈল নিজেদের শরীর বাঁকা করে মাথা ও লেজ কাছাকাছি নিয়ে আসে। ঈলের মাথা ধনাত্মক ও লেজ ঋণাত্মক প্রান্তের কাজ করে। তাই অধিক পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপন্ন করার উদ্দেশ্যে ঈল এমনটি করে থাকে। এরপর ক্রমাগত ইলেকট্রিক শক দিতে থাকে। এতে শিকারের পেশী দ্রুত অবসন্ন হয়ে আসে। শিকারের দেহ নিস্তেজ হওয়ার পর ঈল দ্রুত তাকে গিলে ফেলে।

একটি পূর্ণবয়স্ক বৈদ্যুতিক ঈল মাত্র ২ মিলিসেকেন্ডে ৬০০ ভোল্ট বিদ্যুৎ উৎপন্ন করতে পারে, যা আমাদের বাসা-বাড়িতে সংযুক্ত বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় প্রাপ্ত ভোল্টের চেয়েও কয়েক গুণ বেশি। সামান্য পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপন্ন করতেও এরা কয়েক’শ থেকে কয়েক হাজার পেশী কোষ ব্যবহার করে। জানা যায়, ৬০০-৮৬০ ভোল্ট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপন্ন করতে ৬ ফুট লম্বা ঈল ৬ হাজার পেশী কোষকে ব্যবহার করে।

ঈলের বৈদ্যুতিক কোষগুলো সারিবদ্ধভাবে স্তুপাকারে বিন্যস্ত থাকে। কোষের সারিগুলোর মাঝে রোধক থাকে। প্রতিটি স্তূপ আলাদা আলাদা ব্যাটারির ন্যায় কাজ করে। আলাদা আলাদা কোষের স্তুপ একত্রে সক্রিয় হয়ে প্রয়োজনীয় পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে।

ঈলের বৈদ্যুতিক কোষের একটি প্রান্ত মসৃণ ও অপর প্রান্তটি অমসৃণ বা ভাঁজ ভাঁজ থাকে। যখন স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে কোষে সংকেত পৌঁছায় তখন মসৃণ প্রান্তে থাকা বিশেষ ধরনের ছিদ্রগুলো খুলে যায়। ফলে ধনাত্মক আয়ন দ্রুত কোষের ভিতর প্রবেশ করে। তখন ক্ষণস্থায়ীভাবে ০.০৬৫ ভোল্ট আধান উৎপন্ন হয়। এরপর কোষের ভিতর ঋণাত্মক ও বাইরে ধনাত্মক আধান থাকায় অমসৃণ প্রান্তে ক্ষণস্থায়ীভাবে ০.০৮৫ ভোল্টের পার্থক্য সৃষ্টি হয়। ফলশ্রুতিতে মসৃণ প্রান্তেও ০.০৬৫ ভোল্ট আধান উৎপন্ন হয়। এভাবে প্রতিটি কোষের মসৃণ ও অমসৃণ প্রান্ত মিলে ০.১৫ ভোল্ট বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে।

- Advertisement -

Related Articles

3 COMMENTS

Leave a Comment:

Stay Connected

22,025FansLike
3,912FollowersFollow
18,600SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker

Refresh Page