18.6 C
New York
Wednesday, May 25, 2022

জীবন পালটে যাওয়ার গল্প

গল্পটা পড়ে,,,, চোখের পানি ধরে রাখতে পারলাম না 💔🙂

কোনো এক বোনের ডায়েরিতে লিখে যাওয়া কিছু স্মৃতি 📖🖋️

- Advertisement -

▪️১১.০৩.২০০৫
ডায়েরি লিখতাম না কখনোই। আজ থেকে ঠিক পাঁচ বছর আগে কোনো এক রেজাল্ট এর উপহারস্বরূপ এই সুন্দর ডায়েরিটি উপহার দিয়েছিলেন বড়আপু। তখন থেকেই এটা পড়ে ছিলো টেবিলের এক কোণে। হঠাৎ কি মনে হলো জানিনা। ডায়েরি লেখা শুরু করলাম….

আসলে ডায়েরি লেখার অনুপ্রেরণা পেয়েছি মূলত সুরাইয়ার কাছ থেকে। মাধ্যমিকের মাঝামাঝি এসে ওর সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠে আমার যা একসময় বন্ধুত্বে রূপ নেয়। কি শান্তশিষ্ট মিষ্টি স্বভাবের মেয়ে ছিলো সুরাইয়া! ওর মধ্যে ক্ষমতা ছিলো মানুষকে আকর্ষণ করার! হবেই বা না কেন! আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা যে ওর মধ্যে হেদায়েতের নূর দিয়েছিলেন!

প্রথম যেদিন ওদের বাসায় যাই,আন্টি আমাকে দেখে অনেক খুশি হয়েছিলেন। কথায় কথায় আমার অনেক প্রশংসা করছিলেন। আমি বোরকা পরিনা। অথচ সুরাইয়া পরে। আন্টি সেদিন বলেন,” এতটুকু ছোট মানুষ। ক্লাস নাইনে পড়ে!কি দরকার এখনি আপাদমস্তক কালো বোরকায় ঢাকার!”
সেদিন অনেক বেশি অবাক হয়েছিলাম….যদিও ধর্ম সম্পর্কে আমার জ্ঞান ছিলো শূন্যের কোঠায়। তবুও মনে হতো যেন সুরাইয়া ই ঠিক পথে চলছে। আন্টি সুরাইয়ার উপর কিছুটা বিরক্ত ও ছিলেন। চাচাত মামাত ভাই দের সামনে না যাওয়ায় সুরাইয়ার মায়ের ভাষ্যমতে সুরাইয়া নাকি অসামাজিক!আত্মীয় স্বজন কারো বিয়ের অনুষ্ঠানে যায়না। তার মায়ের ক্ষোভ একমাত্র ভাগ্নের বিয়ের অনুষ্ঠানেও যায়নি সুরাইয়া….
সুরাইয়া কে অবশ্য এটা পরে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তখন ও বলে, “দোস্ত,অনুষ্ঠান ইসলামিক পন্থায় না হওয়ায় মাহরাম মানা একটু কষ্টকর ছিলো আর হারাম গান বাজনা হচ্ছিল।যার কারণে পাপের ভয়ে আমি যেতে চাইনি।”….

সেদিন সুরাইয়ার ঘরে ঢুকতেই ওর টেবিলে রাখা ছোট্ট ডায়েরিটা আমার নজর কাড়ে…. কৌতুহলবশত পড়া শুরু করি। ডায়েরির শুরুর পৃষ্ঠা গুলোতে ছিলো চোখের পানির অস্পষ্ট দাগ আর অসম্ভব আবেগে আল্লাহর কাছে সাহায্যের আকুতি। ওর ডায়েরির একটা কথা ভীষণভাবে আমাকে নাড়া দেয়- “হে দয়াময়। তোমার সাক্ষাৎ আর কতদূর… আর যে সইতে পারিনা । কবে তুমি বলবে আমায়-
” হে প্রশান্ত আত্মা!
তুমি ফিরে এসো তোমার তোমার রবের প্রতি সন্তুষ্টচিত্তে,সন্তোষভাজন হয়ে, অতঃপর আমার প্রিয় বান্দাদের দলভুক্ত হও। আর প্রবেশ করো আমার জান্নাতে।”[১]

এতটুকু বুঝতে পেরেছিলাম,দ্বীনের বুঝ আসার পর থেকেই সুরাইয়ার উপরে নেমে এসেছিলো পারিবারিক বর্বরতা। এত কষ্ট করে মানুষ জান্নাতের প্রত্যাশা করে আর সেখানে আমি! আমি এ কি করছি! নিজেকে পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিলাম সেদিন থেকেই। সুরাইয়ার ওস্তাজা ছিলেন আশফিকা আপু। একদিন সুরাইয়া কে বলে বসলাম আমিও যাবো তোমার সাথে আশফিকা আপুর কাছে,ইলমের জ্ঞান আহরণ করতে।আমার এ কথা শুনে সুরাইয়া অনেক খুশি হয়ে বলেছিলো-বোন,আমার দীর্ঘদিনের চাওয়া ছিলো আল্লাহ যেন তোমাকে দ্বীনের পথে কবুল করে নেন। আজ আমার দোয়া আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা কবুল করেছেন।আমি সফল হয়েছি নু্হা।তোমাকে ছাড়া কিভাবে আমি একা একা জান্নাতে যাবো? বলো? আমি যে তোমায় জান্নাতেও সঙ্গী হিসেবে চাইতাম। প্রতিদিন তাহাজ্জুদে তোমার জন্য আল্লাহর কাছে দুয়া চাইতাম।
সেদিনের পর থেকেই আমার জীবন বদলাতে থাকে। যতই জান্নাত সম্পর্কে জানতে পারি ততই যেন লোভ জন্মাতে থাকে জান্নাতে যাওয়ার জন্য আর দুনিয়ার প্রতি জন্মাতে থাকে বিতৃষ্ণা।
ইশ! একবার যদি জান্নাতে যেতে পারি! অনন্তকাল কত শান্তিতে থাকবো….

▪️১২.০৭.২০০৫
প্রায় চার মাস পর আবার লিখতে বসলাম। আজ নিজেকে আনন্দিত লাগছে। আমি পরিপূর্ণ মাহরাম মেনে চলতে শিখে গেছি। আলহামদুলিল্লাহ।
নাভিদ ভাইয়া ফ্রেন্ডসহ এসেছিলেন আমাদের বাসায়। অনেকদিন আমার সাথে দেখা হয়নি নাভিদ ভাইয়ার। ভাইয়া খুব করে চেয়েছিলেন যেন দেখা করি। কিন্তু আমি কোনোভাবেই তার সামনে যায়নি। নাভিদ ভাইয়া সম্পর্কে আমার চাচাত ভাই, বড় চাচুর ছেলে।
মনে পড়ে একবার রিফা আপুর বিয়েতে আমি শাড়ি পরে সুন্দরমতো সাজগোজ করছিলাম। হঠাৎ ই নাভিদ ভাইয়া রুমে ঢুকে পড়ে। আমাকে দেখে অপলক তাকিয়ে থেকে হঠাৎ বলে ওঠে তোকে খুব সুন্দর লাগছে,রামিশার চাইতেও সুন্দর। সেদিন মনে মনে অনেক খুশি হয়েছিলাম। ভাবছিলাম রামিশাকে টপকাতে পেরেছি অবশেষে! ছোট থেকেই ফুফাতো বোন রামিশার সাথে আমার সবকিছুতেই প্রতিযোগিতা চলতো। আর মাধ্যমিকে পা দেওয়ার পর থেকেই দুই বোনের ক্রাশ ছিলো নাভিদ ভাইয়া। তাই দু’জনেই অনেক সাজতাম ভাইয়ার সামনে। হায়! কতই না অবুঝ ছিলাম আমরা…..!
প্রায় চার বছর পর নাভিদ ভাইয়া স্কলারশিপ শেষে দেশে ফিরেছেন। আমাদের বাসায় এসেছিলেন সবার সাথে দেখা করতে। আমি যাইনি ভাইয়ার সামনে। আম্মু আমাকে রুমে এসে সজোরে একটা থাপ্পড় মারে। তবুও আমার কেন জানিনা কান্না পাইনি একটুও। শুধু মনে হয়েছে আমার কষ্ট সুরাইয়ার তুলনায় অনেক কম।সুরাইয়া যে আমার চেয়েও আগে রবকে খুঁজে পেয়েছে…

▪️১৪.০৭.২০০৫
আজ বড় চাচু বাসায় এসেছিলেন। আব্বুকে যাচ্ছেতাই বকে গেলেন। খুব তো মেয়েকে হুজুরনী বানাচ্ছো তোমরা! দেইখো! আবার জঙ্গি হয়ে বের না হয়। আব্বু নির্বাক। কিন্তু আম্মু আমার রুমে এসে আজ ও আমাকে মারলেন। সুরাইয়ার দেওয়া বোরকা টা রুম থেকে নিয়ে গেলেন। ভাগ্যিস! গত ঈদে আব্বুর দেওয়া টাকাটা দিয়ে চুরি করে আরেকটা বোরকা কিনে আলমারিতে লুকিয়ে রেখেছিলাম। নইলে আশফিকা আপুর দারসে আজ বিকালে যেতে পারতাম না! ভাবতেই গা শিউরে ওঠে!…..

▪️২০.০১.২০০৬
জানুয়ারি মাসের কোনো এক কনকনে শীতের দিনে জানতে পারলাম আমার প্রাণপ্রিয় বান্ধবী সুরাইয়া আর নাই পৃথিবীতে। মৃত্যুর পরও ওর মুখে এক অপরূপ হাসি লেগে ছিলো। ভাবতেই প্রশান্তির শিহরণ খেলে যায় মনে। নিজেকে সেদিনের পর থেকে বড় একা লাগতো। কিন্তু পাশে এসে দাঁড়ালো আশফিকা আপু….

▪️১২.০৩.২০০৬
বড় আপু আসলেন আমাদের বাসায়। আপুর বাবু হবে আর ছয় মাস পর। এই ক’মাস আমাদের বাসায় ই থাকবেন আপু। কিন্তু বিপত্তি বাঁধলো দুলাভাই যখন আসলো আমাদের বাসায়।
আমি কিছুতেই বোরকা ছাড়া দুলা ভাই এর সামনে যেতে চাইনি। প্রিয় আপু,যে কিনা আমি একটু অসুস্থ হলেই সারারাত নিয়ে বসে থাকতো।কখনো আমার গায়ে হাত তোলেনি। সেই আপু আমাকে থাপ্পড় মারলেন আজ…
আজ আমার অনেক কষ্ট হচ্ছে….আপু মারার জন্য যতটা না কষ্ট পেয়েছি তার চেয়ে বেশি কষ্ট পেয়েছি আপু দ্বীনের ব্যাপারে কত অবুঝ!
ইশ! আপুকে যদি বোঝাতে পারতাম…তোমাকে ছাড়া আমি কিভাবে একা একা জান্নাতে থাকবো?? বলো আপু? আমি যে তোমায় ভীষণ ভালোবাসি…..

▪️১৭.০৫.২০০৬
আজ আমার শরীর টা কেন জানিনা অনেক খারাপ লাগছে। আম্মু আপুকে নিয়ে চেকাপ করাতে গেছে ডাক্তারের কাছে। আব্বু বারান্দায় বসে পেপার পড়ছে। আব্বুর কাছে অনেক যেতে ইচ্ছে করছে। বলতে ইচ্ছে করছে খুব… আব্বু তুমিও কি আমাকে আম্মুর মতই ভুল বোঝো?
জানি আমার আব্বু আমাকে অনেক ভালোবাসে। তাই আম্মু যখন শাসন করে আব্বু চুপ থাকে। আম্মুকে বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করে….
ইশ! হঠাৎ এমন রক্তপিন্ড কেন পড়লো মুখ থেকে! ইদানীং দেখি আমার দাঁতের গোড়া দিয়ে অনেক রক্ত বের হয়….

▪️২০.০৬.২০০৬
আজ ও আম্মু আমাকে মারলেন খুব। পরীক্ষায় রেজাল্ট খারাপ হওয়ায় মামাত ভাই রাজুকে খবর দিয়ে নিয়ে আসছিলেন আমাকে পড়ানোর জন্য। আমি রাজি হয়নি।
আজ কেন জানি আমারও সুরাইয়ার মতো বলতে ইচ্ছে করে…”হে দয়াময়! তোমার সাক্ষাৎ আর কতদূর… আর যে পারিনা সইতে…….”
“ইয়া মুক্বল্লীবাল ক্বুলুব,ছাব্বিত ক্বলবী আলা দ্বিনিকা।” [২]

▪️০৫.০৭.২০০৬
আম্মু আর আপু আজ ফারিব ভাইয়ার বিয়েতে গেল। আমাকেও জোর করেছিলো। কিন্তু ফুফুবাড়ি ফারিব ভাইয়ার বিয়েতে অনেক মানুষ আসবে। মাহরাম মানা টা কষ্টকর হয়ে যাবে। এ কারণে যেতে চাইনি। আমার জন্য আব্বু ও থেকে গেলেন বাড়িতে।
আব্বু আম্মু দু’জনেই আমাকে অনেক ভালোবাসে। আজ রাতে তাহাজ্জুদে আল্লাহর কাছে খুব করে চাইবো আমার ভালোবাসার মানুষ গুলোকে আখিরাতে আমার সাথেই জান্নাতে প্রবেশ করিয়ো হে করুণাময়। শেষ রাতে বান্দা যখন তোমার কাছে কেঁদে কেঁদে কিছু চায় তুমি তাদেরকে তাই ই দাও। হে করুণাময়! আমার পিতামাতা বোনকে তুমি সঠিক পথ দেখাও, কবুল করে নাও তোমার দ্বীনের খাদেম হিসেবে…..

▪️১৫.০৭.২০০৬
আজ হাসপাতাল থেকে রিলিজ পেলাম। আব্বু আম্মু ধরে ধরে আমাকে রুমে এনে শুইয়ে দিলো। কত মায়া দু’জনের চোখে।

“হে আমার রব, তাদের প্রতি দয়া করুন যেভাবে শৈশবে তারা আমাকে লালন-পালন করেছেন।”[৩]

সেদিন হঠাৎ তাহাজ্জুদ পড়ার সময় কি হলো জানিনা। জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলাম। যখন জ্ঞান ফিরে, নিজেকে হাসপাতালের বেডে আবিষ্কার করি। পাশে দেখি আম্মু আর বড় আপু কাঁদছে…

▪️২৫.০৭.২০০৬
শরীর ক্রমশ খারাপ হয়ে যাচ্ছে….
বুঝতে পারছি আমার হয়তো আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের সময় হয়ে এলো। হঠাৎ যেন সবাই পরিবর্তন হয়ে গেলো!…
আব্বু আম্মুও কেমন চুপচাপ হয়ে গেছে। আগের মতো আর কেউ চা নিয়ে আড্ডা দেয়না। আম্মু আব্বু দেখি ইদানীং রোজ তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে। ওয়াক্তের নামাজ ও অনেক সময় নিয়ে পড়ে। কেঁদে কেঁদে কি যেন চায়। বুঝতে পারি আমার সুস্থতার জন্যই হয়তো আল্লাহর কাছে দোয়া চায়। অনেক ভালোবাসি তোমাদেরকে…
আপুও এখন সারাক্ষণ আমার কাছেই থাকে। আমার কখন কোন ওষুধ খেতে হবে সব বিষয়ে খেয়াল রাখে সেই ছোটবেলার মতো যখন আমি অসুস্থ হতাম আপুর চোখে ঘুম থাকতো না…

▪️৩০.০৭.২০০৬
আজ আমার অনেক আনন্দ হচ্ছে। আমার প্রিয় মানুষ গুলি সবাই ইলম এর জ্ঞান অর্জনে অগ্রসর হয়েছে অনেক। আজ আশফিকা আপু এসেছিল আমাকে দেখতে। আপু, আম্মু, আশফিকা আপু আমার রুমে বসে একটা তালিম করলো। বড় ভালো লাগলো আজ। মনে হয় অনেক গুলো বছর যেন এই দিনের অপেক্ষায় ছিলাম…..

▪️০৩.০৮.২০০৬
শরীরের শক্তি যেন ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে। আপু তো আমাকে লিখতেই দিতে চাইনা এখন আর। আজ আপুর চেকাপের দিন থাকায় আম্মু আপুকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে গেছেন। আব্বু আর বড় ফুফু আছেন বাসায়। ফুফু হয়তো ক্লান্ত তাই ঘুমাচ্ছে। এই সুযোগে আমি ডায়েরি টা নিয়ে বসলাম। কেন জানিনা মনে হচ্ছে আর হয়তো লেখার শক্তি পাবো না। আপু, আম্মু,আব্বু তোমাদেরকে ভীষণ ভালোবাসি আমি….
আপু,তোমার বাবুকে আমি আর দেখতে পাবো কিনা জানিনা। তোমাকে এই কথা বলতেও পারবো না সামনাসামনি,তুমি অনেক কাঁদবা জানি। আব্বু বাইরে বড় চাচুর সাথে যখন আলোচনা করছিলো আমি শুনে ফেলেছি। আমার জানি কি এক অসুখ হয়েছে যা আর সারবে না। আমি হয়তো আর খুব বেশিদিন তোমাদের সাথে থাকবো না। আপু, আল্লাহর ফায়সালার উপরে ধৈর্য্য রেখো। পৃথিবীতে কেউ কখনো চিরদিন বেঁচে থাকবে না…।
আপু,আমার খুব ইচ্ছা জান্নাতে যেন একসাথে প্রবেশ করতে পারি আমরা। একসাথে অনেক মজা করবো আপু। তুমি প্লিজ আব্বু আম্মুকে বুঝিয়ো, দ্বীনের সঠিক জ্ঞান আহরণ করিয়ো। আপু, আশফিকা আপু খুবই ভালো হাফিজা। দ্বীনএর বিষয়ে অনেক ভালো জানেন। মাশা আল্লাহ। তোমরা আপুর কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পারবা। আর তোমার যদি মেয়ে হয়, নাম রাখিয়ো আয়েশা, আর ছেলে হলে উমার। দুইটাই ই আমার খুব পছন্দের নাম ছিলো আপু।…

▪️২০.০৯.২০০৭
তোর ডায়েরি টা অনেক বার পড়েছি ছোটু। তোর ডায়েরিতে আমি কখনো কিছু লিখিনি। কিন্তু আজ মনে হলো কিছু লিখি। অনেক ভালোবাসি আমরা তোকে। খুব বেশি যখন মিস করি তোর এই ডায়েরিটা পড়ি। আজ তোর মৃত্যুর এক বছর পূর্ণ হলো। তুই বেঁচে থাকতে আমরা তোকে বুঝিনি রে। তোর ছোট্ট শরীরে যে ভয়ানক লিউকেমিয়া বাসা বেঁধেছিলো আমরা ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারিনি। তোর দেওয়া নামটাই রেখেছি তোর ভাগ্নীর। সামনের মাসে এক বছর পূর্ণ হবে আয়েশার। জানিস ছোটু, আয়েশা এখন এটা সেটা ধরে দাঁড়ায়। দু’তিন কদম হাঁটার চেষ্টাও করে। মনে মনে ভাবি তুই থাকলে কত্ত খুশি হতি!.. এমনিতেই বাইরের কারো বাচ্চা দেখলেই যে কত্ত আদর করতি, সেই তুই নিজের বোনের মেয়েটাকে দেখে যেতে পারলি না। যখন খুব মন খারাপ হয় তোর এই ডায়েরিটা পড়ি। ছোটু,আমরা আর আগের মতো মডারেট মুসলিম নেই রে…। এখন তুই থাকলে আর একা হতি না। কেউ আর তোকে অসামাজিক বলে গালি দিতো না। জানিস ছোটু, মা-বাবা, তোর দুলাভাইয়া সবাই হেদায়েতের আলোয় আলোকিত হয়েছে।আলহামদুলিল্লাহ। তোর চাওয়া পূর্ণ হহয়েছে রে….
আল্লাহ আমাদেরকে পথ দেখিয়েছেন। দ্বীন বিষয় কত অবুঝ ছিলাম আমরা…..

এ পর্যন্ত পড়েই আয়েশা ডায়েরিটা বন্ধ করলো। বাইরে মায়ের পায়ের আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। হয়তো মা এ রুমের দিকেই আসছেন। আগের মতোই ডায়েরিটা ড্রয়ারে রেখে আয়েশা ঘর থেকে বের হয়ে এলো।

“আয়েশা”
জ্বী মামণি।”
“তোমার ওস্তাযা এসেছেন। যাও পড়তে যাও।তুমি নাকি তাজউইদ এ ভুল করেছো অনেক গতকাল। এভাবে পড়লে তো হবে না,মা। তিলাওয়াতে তোমার আরো বেশি অনুশীলন করা উচিত।”

“আচ্ছা মা। আর ফাঁকি দিবোনা। ” বলেই আয়েশা নিজের রুমের দিকে যেতে যেতে ভাবতে লাগলো, ইশ! খালামনি কত্ত কষ্ট করেছেন। আর সে কিনা এত সুন্দর দ্বীনি পরিবেশ পেয়েও ইলম এর জ্ঞান আহরণ এ এত পিছিয়ে! আজ থেকেই প্রতিজ্ঞা করলো আর কখনো সময় অপচয় করবে না। খালামণির সাথে দেখা করতে হবে যে জান্নাতে…..!

Related Articles

Leave a Comment:

Stay Connected

22,025FansLike
3,327FollowersFollow
18,600SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles