18.6 C
New York
Wednesday, May 25, 2022

আজ আমার ফাঁসি

ফাঁ’সির মঞ্চ প্রস্তুত।
জানিয়ে দেওয়া হল আজ রাতে তোমার ফাঁসি।

- Advertisement -

কথাটা শুনে হঠাৎ কেমন যেন নিস্তব্ধতা ছেঁয়ে গেলো চারিদিকে। শরীরটা কেমন করে যেন উঠলো। অনুভব অনুভূতি কি নিজেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা মুশকিল মনে হচ্ছে। না হাসি না চোখে পানি। কল্পনার জগতে বারবার চোখের সামনে ভাসতে থাকে ফাঁ’সির মঞ্চ। কেমন হতে পারে ফাঁসিতে ঝোলানোর মূহুর্তটা।

কল্পনায় ভাবতে থাকা মন, ইশ কোন ভাবে যদি এই মূহুর্তটা উল্টে যেত। সব মিথ্যা হয়ে যেত।

কিছুক্ষণ পর খবর আসে, পরিবারের আপনজনেরা এসেছে সাক্ষাতের জন্য। কথাটা শুনা মাত্রই মনটা কেমন করে জেন উঠলো। শুনলাম জনপ্রতি সময় নাকি মাত্র ৫ মিনিট করে।

আচ্ছা ওরা যখন আসবে… কি কথা বলবো তাদের সাথে। কি বিষয়ে বলবো। ওরা আমার সাথে কি কথা বলতে পারে। শেষ কথাটা কি এমন কিছু বলবে, ভালো থাকিও। নিজের যত্ন নিও। এমন কিছু না অন্য রকম কিছু।

আমি তো আজ কোন কথায় খোঁজে পাচ্ছিনা মনে হচ্ছে। এটাইকি তবে জীবনের শেষ দেখা। আর কি কখনোই দেখবো না ওদের কাউকে। বাড়িতে পরিবারের কাছে আমার কি তবে আর ফিরা হবেনা কখনোই।

একটু পর একজন একজন করে আসতে থাকে,
তাদের দেখে কোন কথায় যেন আজ মুখ থেকে বের হচ্ছেনা। ওদের প্রতিজনের চোখে পানি দেখছি, ওরা কান্না করছে আমার হাতটা ধরে কি জেন বলে বলে।

আমি আজ কিচ্ছুই যেন শুনতে পাচ্ছি না, তাদের চোখের পানি কেমন যেন আজ আমার অন্তর স্পর্শ করছে না। আমি শুধু অপলক তাকিয়ে আছি তাদের চেহরার দিকে। কি বলবো বুঝতে পারছি না।

আমার ছোট্ট বাচ্ছাটা বাবা বাবা বলে ডাকছে। তার চেহরার দিকে তাকিয়ে নিজের মনে কেমন যেন লাগছে আমার। ওকে কি মাথায় হাত বুলিয়ে দিব, গালে চুমু খাবো। বুকের সাথে একটু জড়িয়ে ধরবো। কি করবো কি বলবো, এই মূহুর্তে কি করা উচিৎ কিছুই তো আজ মাথায় ধরছে না।

একবার ভাবলাম পরিবারের সবাইকে বলবো, চিন্তা করিওনা, কিছুদিনের ই তো ব্যাপার, জামিন হলেই ফিরে আসবো, ততদিন একটু কষ্ট করে থাকিও চলিও। হঠাৎ থমকে গিয়ে মনে হল, এই কথাটা বলার সুযোগ তো আর আমার নেই। আমার তো আজ রাতে ফাঁ’সি।

হঠাৎ জেলার এসে একে একে সবাইকে নিয়ে যেতে লাগলো, কেউ যেন যেতেই চাচ্ছেনা। সবাই আমার দিকে হাত বাড়িয়ে তাকিয়ে কি যেন বলতে চাচ্ছে।


আমি শুধুই অপলক নয়নে তাকিয়ে আছি। কি হচ্ছে, কেন হচ্ছেই কিচ্ছুই যেন বুঝতে পারছিলাম না।

সবাই চলে যাওয়ার পর, চিরচেনা সেই জেল ঘরের এক কোনে বসে জেলখানার রুমটা দেখছিলাম। কি করবো কি করা যায় ভাবছিলাম।

জীবনের দুঃখে কষ্টে যন্ত্রণায় অসহ্য হয়ে বারবার
আ ত্ম হ ত্যা করতে চাওয়া সেই আমার অন্তরে আজ কেমন যেন জীবনের প্রতি খুব মায়া হচ্ছে। আজ যেন খুব বাঁচতে ইচ্ছে করছে। জীবনের সমস্ত দুঃখ কষ্ট যন্ত্রণা কেমন যেন আজ খুব নরমাল সহজ সাধ্যি মনে হচ্ছে। অতীত জীবনের কোন কষ্টই যেন আজ গায়ে লাগছেই না।

হঠাৎ তালা খুলার শব্দ কানে ভেসে আসে। শব্দটা শুনে ভয়ে শরীর নিস্তেজ হয়ে যেতে লাগলো। কেমন যেন খুব মারাত্মক ভয় অনুভব হতে লাগলো। দুই তিনজন রুমের ভিতর প্রবেশ করে। তাদের চেহরা গুলো দেখে অন্তর কেমন যেন করছিলো।

হঠাৎ দেখি, কয়েকজন এসে আমাকে ধরে টেনে হিজড়ে বের করে কোথায় যেন নিতে চাচ্ছে। আমার পা এক কদম ও এগোতে চাচ্ছিলোনা। সারাদিন না বলা আমার মুখে যেন এক বাধভাঙ্গা চিৎকার। চোখের পানি অঝোর ধারায় পড়তেছিলো চোখ থেকে।

এইবার পরিবার বন্ধুবান্ধব সবার চেহরা যেন আমার চোখে ভেসে উঠতেছে বার বার। এইদিকে ধমক দিয়ে দিয়ে আমাকে টেনে টেনে নিয়ে যাওয়া হল এক রুমে।
হঠাৎ চোখ পড়লো ফাঁ’সির দঁড়িটার দিকে। পাশে কালো পোষাকে দাঁড়িয়ে একজন। দেখে বুঝলাম এই বুঝি সেই জল্লাদ।

কেমন যেন লাগছে আমার,
পালিয়ে যাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করতে লাগলাম।
টেনে টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলো ওই দঁড়ির দিকে।

হাত পা ছোটাছুটি করতে করতে,

হটাৎ

লাপ দিয়ে উঠে জোরে জোরে নিশ্বাস নিতে লাগলাম,
ডানে বামে তাকিয়ে কোথায় আছি বুঝার চেষ্টা করতে লাগলাম। স্বপ্ন না বাস্তব এইটা বুঝার চেষ্টা করতে লাগলাম। কিছুক্ষণ পর যখন বুঝতে পারলাম এইটা তো একটা স্বপ্ন ছিলো। ঠিক ওই মূহুর্তে এ-ই জীবনটা আসলেই যে কত সুন্দর, আল্লাহর কত বড় দয়া দান বুঝতে পারলাম। অনুভব করতে লাগলাম।
জীবনের হাজারো কষ্ট যন্ত্রণা হাসিমুখে মেনে নিতে রাজি এই পরিস্থিতি থেকে বাছার জন্য, বারবার এমন মনে হচ্ছিলো। কোন কষ্ট যন্ত্রণায় এইটার সামনে কিচ্ছুইনা এমন মনে হচ্ছিলো।

দুঃখ কষ্টে যন্ত্রণায় অসহ্য হয়ে বারবার মরে যাওয়ার কথা ভাবতে থাকা মানুষটির কাছে আজ জীবনটা সম্পূর্ণ নতুন ও অশেষ সুখের মনে হচ্ছিলো।

দুঃখে কষ্টে নিজেকে বিষ/ ফাঁ’সিতে জুলিয়ে দেওয়া মানুষটা ও হয়তো ধীরে ধীরে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার যন্ত্রণায় একবার নিজেকে বাঁচার শেষ চেষ্টাটা করেছিলো। হয়তো ভেবেছিলো, ইশ কি করলাম আমি।

জীবন অশেষ সুন্দর এক নিয়ামত,
যার প্রতিটি ক্ষণ ই সুন্দর।

দুঃখ কষ্ট জীবনের এমন সাথী,
এদের থেকে পালানো যায় না,
এই চির বাস্তবতাকে যে যত দ্রুত মনে বসিয়ে নিতে পারে, তার জন্য জীবন তত সুন্দর।

সর্বাবস্থায় আল্লাহর প্রতি প্রেমময় ধৈর্য নিয়ে, পরিস্থিতিতে ঠিকে থেকে, পরকালকে সুন্দর করে সাজাতে হয়। এটাই জীবন।

মুমিনের জন্য কষ্টটা ও এক বিশেষ নিয়ামত…
হয়তো মর্যদা বাড়াবে, না হয় গুনাহ কমাবে।

Related Articles

Leave a Comment:

Stay Connected

22,025FansLike
3,327FollowersFollow
18,600SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles